ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর
কী করছে সরকার, গ্যাস-বিদ্যুতের এত সংকট কেন

কী করছে সরকার, গ্যাস-বিদ্যুতের এত সংকট কেন

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ছয় মাসে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়েই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ও সংকট সামনে এসেছে। দেশে গ্যাস বিদ্যুৎ নিয়ে বহুদিন এরকম ভোগান্তির মধ্যে পড়েনি সাধারণ মানুষ। সরকারের পক্ষ থেকে চলমান সংকটের জন্য এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা, ইরান যুদ্ধ এবং অতীতের সরকারের নীতির উপর দায় চাপানো হয়েছে।বিশ্লেষকদের অনেকেই অতীতের সরকারের নীতি এবং দুর্ঘটনার দায়ের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান তীব্র লোডশেডিংয়ের জন্য একদিকে জ্বালানি সংকট অন্যদিকে সরকারের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দুটোই দায়ী।দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত গ্রাম থেকে শহর। অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা বাণিজ্যে। ঘন ঘন লোডশেডিং মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলেও সারাদেশে লোডশেডিং সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এ বছর ১০ আগস্টে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল।বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম ছয় মাসে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাত মূল্যায়ন করে তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, ছয় মাস কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত সময় নয়। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আছে।‘সরকার ছয় মাসে যে লক্ষণগুলো দেখাচ্ছে এর একটা হচ্ছে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো মনোযোগ আমরা দেখি নাই। গতিমুখ পরিবর্তনের কোনো চেষ্টা আমরা দেখি নাই। এবং সংকটকে যথাযথভাবে শনাক্ত করে সেখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা বের করার সেটার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ দেখতে পারছি না। আমরা উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি বরঞ্চ দেশি বিদেশি কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ব্যবসা বাড়ানোর ব্যাপারে তাদের আগ্রহ’ বলেন তিনি।পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহ বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের ঘাটতি দেখেন। তিনি বলেন, সরকার একত্রিশ সালের মধ্যে দশ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি কর্মসূচি দিচ্ছে, কিন্তু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবেলার পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।‘যেকোনো একটা ক্রাইসিসে যেকোনো একটা খাতকে তিনটা প্রোগ্রাম নিতে হয়। একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম, একটা মিডটার্ম প্রোগ্রাম এবং একটা লংটার্ম। ক্রাশ প্রোগ্রামটা কী তাদের এখনো জানে না। অনেকের সঙ্গে আমি আলাপ করি তারা কোনো আইডিয়া করতে পারতেছে না কীভাবে ইমিডিয়েটলি এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে মুক্তি দেওয়া যাবে। যারা এখানে বসে আছে পাওয়ার সেল আছে, বিদ্যুৎ বোর্ড আছে, অন্যান্য সংস্থা আছে বিদ্যুৎ মন্ত্রী স্বয়ং এখানে ছিলেন। এই ক্রাশ প্রোগ্রামটা কী হবে এইটা তারা জানে না।’অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান মন্ত্রীর সঙ্গেই কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বি. ডি. রহমতউল্লাহ বলেন এবার মন্ত্রীর কিছু বক্তব্যের বিষয়েও সমালোচনা হচ্ছে। ‘আগে তাকে দেখেছি অসম্ভব দৌড়াদৌড়ি করতে। অসম্ভব পরিশ্রম করতো। আমি একটা শুক্রবার রেস্ট পাই নাই ওনার জন্য। বলতো চলেন সাইট দেখে আসবো। ওই যেরকম করতো সেটাতো এখন নাই ওই ড্রাইভটাইতো নাই। মন্ত্রী কেন বানানো হইছে? জনগণ কেন ভোট দিছে? অদ্ভুত কথাবার্তা বলতেছে। কয়দিন আগে বললেন, গ্রামে লোডশেডিং হয় না। এটা একটা মন্ত্রীর কথা হইলো?’সরকার কী করছেদেশে বর্তমানে আমদানি ও ক্যাপটিভ মিলিয়ে ৩৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। এই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটা সহনীয় করা সম্ভব বলে বিশ্লেষকরা কেউ কেউ মনে করেন।গ্যাস সংকটে নাকাল জনজীবন। ছবি: সংগৃহীতক্ষমতা গ্রহণের পর গত ছয় মাসে সরকার সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে তৎপর হয়েছে। আরও এলএনজি আমদানির করতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণে চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে চুক্তি বিষয়ে তৎপরতা চলছে। এছাড়া দেশের গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে কূপ খনন এবং ও ভোলার গ্যাস পাইপলাইন তৈরির বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে সরকার জানাচ্ছে।আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে দশ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। এছাড়া সরকার সোলার বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে কাজ করছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটে শুল্কমুক্ত সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু বাজেটে এই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদে সরকার বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকট নিরসনে কীভাবে কাজ করবে তার একটি রূপরেখা সংসদে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। নতুন করে আরও কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ব্যপারেও সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বরাত দিয়ে এমন খবর হয়েছে গণমাধ্যমে।গত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যুতের তীব্র সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকার জরুরি আইন করে রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে। এছাড়া এলএনজি, কয়লা ও ডিজেল ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জরুরি আইন করে দরপত্র ছাড়াই বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়।ওই সময়েও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন।এখন বিএনপি সরকার বলছে, আমদানি নির্ভরতার কারণে রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, অতিরিক্ত জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ভর্তুকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে চাইলেই রাতারাতি সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। জ্বালানি খাতে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলেও সরকারের নীতি নির্ধারকরা বলছেন।পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকার চলমান লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত কার্যকর কোনো সমাধান বের করতে পারেনি। বর্তমান সক্ষমতা দিয়েই অতীতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে ছিল। এমনকি অন্তবর্তী সরকারের সময়ে পরিস্থিতি এত খারাপ হয়নি। অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপেরও সমালোচনা আছে।এত সংকট কেন?বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সরকার কিছু বাস্তব সমস্যার মধ্যে পড়েছে বলে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। এর মধ্যে প্রধানতম সমস্যা হলো যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীর সংকট। তেল গ্যাস আমদানির বেশ কিছু চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অতিরিক্ত দামে স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে ভর্তুকি বাড়ছে।অন্যদিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোয় দায়িত্বশীল নীতি নির্ধারণী পদে যে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তাদের বেশির ভাগই এখন চাকরিচ্যুত বা অপসারণ হয়েছেন। এর একটা বিরূপ প্রভাবও সৃষ্টি হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। এর ফলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার মানসিকতায় ভাটা পড়েছে এমন পর্যবেক্ষণও রয়েছে। এছাড়া গত দুই বছরে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র যথাসময়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি এমন অভিযোগও রয়েছে।অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসে সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করার কারণে অনুসন্ধান ও উত্তোলন এবং জ্বালানি খাতে একটা স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে।জ্বালানি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এই মুহূর্তে ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে বর্তমানে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। পিক আওয়ার তথা সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার সময় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানোরও সুযোগ আছে। সেটিও কাজে লাগছে না। কয়লা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো ও নিজস্ব গ্যাস ও এলএনজির দক্ষ ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ম্যানেজ করে ভোগান্তি কমানো সম্ভব।জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতি নিয়ে আনু মুহাম্মদ দীর্ঘদিন আন্দোলন করছেন। অতীতে ফুলবাড়ি উন্মুক্ত খনি বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জ্বালানি রফতানি বিরোধিতা, সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধী আন্দোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের দাবিতে আন্দোলনে সোচ্চার দেখা গেছে তাকে।আনু মুহাম্মদ বলেন, ২০১০ সালে আমরা তৎকালীন সরকারকে বলেছিলাম বিদ্যুৎ খাতে সমাধানের পথ হলো জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া। কিন্তু তখন সরকার সংকট দেখিয়ে জরুরি পরিস্থিতি দেখিয়ে বিশেষ আইনে তেলভিত্তিক রেন্টাল, কুইক রেন্টাল এবং কয়লা এলএনজি আমদানি করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়।‘এটাতো অনিবার্য পরিণতি। গত দুই দশক ধরে যে ধরনের নীতির মধ্যে দিয়ে গেছে বাংলাদেশ সেটার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে এটা। কী কী নীতি কাঠামোর কারণে এই সমস্যাটা হলো এটা প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে এবং বিকল্প পথে যাত্রা করতে হবে।’বর্তমান সরকার গ্যাস সংকট সমাধানে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।লোডশেডিং অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ছবি: সংগৃহীতআনু মুহাম্মদ বলেন, অতীতের সরকারের মতো জরুরি পরিস্থিতি দেখিয়ে বর্তমান সরকারও কয়লা উত্তোলন, এলএনজি আমদানি বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে যেটি তার ভাষায় বিপজ্জনক এবং এতে টেকসই সমাধান হবে না।‘সমধানের পথ হলো আমাদের রিনিউএবল এনার্জির ওপর জোর দিতে হবে। জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে গ্যাস অনুসন্ধান উত্তোলনে মনোযোগ দিতে হবে। ইতোমধ্যে যে গ্যাসটা আমাদের আছে স্থলভাগে ভোলা ছাতক এসমস্ত জায়গায় কত দ্রুত এগুলিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে যুক্ত করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। ছয় মাস পরে এসে সরকার বলছে আমরা দুই বছরে কিছু দিতে পারবো না। প্রথমে দায়িত্ব নেওয়ার পরেইতো পুরো জিনিসটা পর্যালোচনা করে তাদের একটা পরিকল্পনা করা দরকার ছিল, একটা পথনকশা করার দরকার ছিল সেটার তো কোনো উদ্যোগ দেখা যায় নাই।’সরকার কী বলছেবিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে এবং বিভিন্ন সভা সেমিনারে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমান সংকটের জন্য এ সরকার কোনো দায় নিতে চায় না। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির কারণে বর্তমান সংকট এমন কথা শুরু থেকে বলে আসছে নতুন সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।জ্বালানি খাতে কার্যক্রম নিয়ে গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জানা যায় মন্ত্রী সরকারি সফরে বিদেশ রয়েছেন। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ে দেখা করে সময় চাইলে প্রতিমন্ত্রী সাক্ষাৎকার দেননি।সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সংকট মোকাবেলায় সরকারের উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি জানান, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি মেরামত হয়েছে, কিন্তু এখন গ্যাস আমাদানি কার্গো আসতে সমস্যা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের জন্য বিদ্যুৎ বিল এককালীন না দিয়ে বারো মাসের কিস্তিতে দেওয়ার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।‘শিল্প কারখানার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস বাঁচাতে এবং গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি সর্বোচ্চ করতে বলা হয়েছে। ভোলা থেকে গ্যাস আনতে পাইপালাইন করার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে, এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। দেশীয় উৎস থেকে ১৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’নির্বাচিত সরকারের সময় জ্বালানি চাহিদা বেড়েছে এটিও বর্তমান সংকটের একটা কারণ বলে দাবি করেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আমরা জনগণের ক্রাইসিসের প্রতি সমব্যাথী তবে একই সঙ্গে এই কথাটা বলতে চাই- ‘এই সংকটটা বহু বছরের পুঞ্জিভূত সমস্যা। দুবছরের মতো সময় ইন্টেরিম সরকার ছিল। তারাও কি স্থলভাগে গ্যাস খোঁজার জন্য খুব চেষ্টা করেছে। উত্তর হচ্ছে, না।’বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকটে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার যে অভিযোগ সেটি নিয়ে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন,‘এটা উড়িয়ে দিচ্ছি না যে, ম্যানেজমেন্টে কোনো সমস্যা হয়নি। আমি এটা উড়িয়ে দিচ্ছি না। একটা সরকার আমাদের মতো দেশে মোটাদাগে কিছু অদক্ষতা সমস্যা থাকতে পারে। সেটা আমরা একনলেজ করি। মূলত যুদ্ধটাই এ সংকটের কারণ।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা
১০ ঘন্টা আগে

দিনাজপুরে লিচুর মুকুলে হাসছে চাষির স্বপ্ন

দিনাজপুরে লিচুর মুকুলে হাসছে চাষির স্বপ্ন

দিনাজপুরে বাসের ধাক্কায় শিশু শিক্ষার্থী নিহত

দিনাজপুরে বাসের ধাক্কায় শিশু শিক্ষার্থী নিহত

যৌতুক মামলায় দিনাজপুর ডিসির দেহরক্ষী কারাগারে

যৌতুক মামলায় দিনাজপুর ডিসির দেহরক্ষী কারাগারে

দিনাজপুরে শহীদ মিনারে ডিসি আগে ফুল দেওয়ায় এমপির ক্ষোভ, বললেন ‘মিটিংয়ে এর জবাব নেবো’

দিনাজপুরে শহীদ মিনারে ডিসি আগে ফুল দেওয়ায় এমপির ক্ষোভ, বললেন ‘মিটিংয়ে এর জবাব নেবো’

কে হচ্ছেন সরকার দলীয় চিফ হুইপ, আলোচনায় নোয়াখালীর ২ সিনিয়র নেতা

কে হচ্ছেন সরকার দলীয় চিফ হুইপ, আলোচনায় নোয়াখালীর ২ সিনিয়র নেতা

খানসামা টিটিসি পরিদর্শনে হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া

খানসামা টিটিসি পরিদর্শনে হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া

ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক: বাজার স্থিতিশীলতা, নাকি দামের ওপর নতুন চাপ

ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক: বাজার স্থিতিশীলতা, নাকি দামের ওপর নতুন চাপ

ঈদে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ

ঈদে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি রেজিস্ট্রি চেষ্টার অভিযোগ: কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি রেজিস্ট্রি চেষ্টার অভিযোগ: কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি

কোন ভিডিও নেই !

স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে তছনছ বাংলাদেশ

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকাই টেস্টে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিচেল স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে প্রথম ঘণ্টাতেই এলোমেলো টাইগাররা।  প্রথম ২২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন তছনছ করে দিলেন। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে সফরকারীরা।২২ বলের মধ্যে বাংলাদেশের ৫ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন স্টার্ক। কিন্তু এটা দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ড নয়। টেস্টে সবচেয়ে দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ড ১৫ বলে— সেটিও স্টার্কেরই! গত বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিতে ১৫ বল লেগেছিল তার। ওই ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়েছিল মাত্র ২৭ রানে।২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। টেস্টে সেটিই  সর্বনিম্ন স্কোর বাংলাদেশের। ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬ রানে অলআউট হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেটিই এখনও টেস্টে কোনো দলের সর্বনিম্ন। প্রথম বলে সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের শিকার বানান অজি পেসার। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান স্টার্ক। প্রথম তিন ব্যাটারই মারেন ডাক। মুমিনুল হককে ৯ রানে ফেরান স্টার্ক। ৫ বল খেলা লিটন দাসকেও শূন্য রানে ফেরান বাহাতি এই পেসার। এদিকে মুশফিককে বোল্ড করেন কামিন্স। 

স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে তছনছ বাংলাদেশ
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম
বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘কঠিন’ গ্রুপে পড়েছে দাবি দুই দেশের কোচের। আপনিও কী এমনটি মনে করেন?

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘কঠিন’ গ্রুপে পড়েছে দাবি দুই দেশের কোচের। আপনিও কী এমনটি মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন