দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর
এসি চালানো শিখতে আট কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ!

এসি চালানো শিখতে আট কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ!

সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের শীর্ষ আট কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালকও রয়েছেন। আটজনের সরকারি সফরের অফিসিয়াল প্রোগ্রামের নাম ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’। যদিও তিন দফা পরিবর্তনের পর তাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি মাসের ১৫ তারিখ।এদিকে, যে প্রকল্পের খরচে এসব কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন, সেই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। প্রকল্পের ব্যয় দুদফায় বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, যে এইচভিএসি সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—সেই সিস্টেমের কাজ রয়েছে শেষ পর্যায়ে। এর বাইরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক এ সফরে গেলেও তার চাকরির মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হবে। এ ছাড়া যেসব কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন, তারা কেউই সরাসরি হাসপাতাল নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এমনকি নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণেও তাদের সম্পৃক্ততা থাকার সুযোগ নেই। এর পরও এসব কর্মকর্তাই সফরে যাচ্ছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।নথিপত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ আট কর্মকর্তার সফরের যাবতীয় খরচ বহন করবে। ডানহাম-বুশ মূলত বিশ্বব্যাপী চিলার ও এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশেও অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এগুলোর মধ্যে দেশের কয়েকটি বড় শপিংমলও রয়েছে।এদিকে, ডানহাম-বুশের খরচে আট কর্মকর্তার সফর ঘিরেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কোনো সফর করলে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিও এক প্রকার দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে সরবরাহ করা এইচভিএসি সিস্টেমের ক্ষেত্রে মানের প্রশ্ন উঠতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র নেওয়া কর্মকতারা হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন, প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি।২০১৯ সালে আটটি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। সর্বশেষ প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করে সময়সীমা বাড়ানো হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। এ মেয়াদ শেষ হলেও আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রকল্পের সব কাজ শেষ হতে ২০২৮ সালের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।প্রকল্পে নেওয়া আটটি হাসপাতাল হলো—ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রকল্পটি গ্রহণ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আর বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।গণপূর্ত অধিদপ্তরের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিদপ্তরের সাতজন কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক এসি ব্যবস্থাপনা শিখতে বিদেশ যাওয়ার জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেন। চিঠিতেউল্লেখ করা হয়, ‘সেফটি ফ্যাসিলিটিস, অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ম্যানেজমেন্ট অব এইচভিএসি সিস্টেম’ শীর্ষক ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে আটজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র যাবেন। সফরের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি, পাঁচ দিন। তবে যাওয়া ও আসার সময় আলাদাভাবে যুক্ত থাকবে।নথিপত্র বলছে, নির্ধারিত ওই তারিখে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে যাননি। পরে নতুন করে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত সফরের অনুমোদন নেওয়া হয়। যাতায়াতের সময় এর বাইরে রাখা হয়। তবে তথ্য বলছে, ওই সময়েও কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যাননি।সর্বশেষ ৪ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে আবারও এ আটজনের বিদেশযাত্রার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, এসি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত এসব কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন।গণপূর্ত অধিপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমরাই তো এইচভিএসি রক্ষণাবেক্ষণে থাকব। তাই প্রশিক্ষণে যাওয়া হচ্ছে।গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী  বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশ থেকে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রকৌশলীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবসরে গেলেও একজন প্রকৌশলী পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতে কাজ করলে এ প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারবেন।আট কর্মকর্তার সফরের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
১৬ মিনিট আগে

কোন ভিডিও নেই !

পাকিস্তানকে সর্বনিম্ন রানে অলআউট করল বাংলাদেশ

মিরপুরের স্লো উইকেটে বরাবরই বাড়তি সুবিধা পান স্পিনাররা। স্পিন স্বর্গেই এবার রীতিমতো আগুন ঝরালেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের গতি আর বাউন্সে চোখে সর্ষে ফুল দেখেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান-সালমান আগারা! ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়ানডেতে ফাইফার পেয়েছেন নাহিদ। তাতে কোনোরকমে একশ ছুঁয়ে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান।টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভার সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করেছে পাকিস্তান। যা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে ২৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ।নতুন বলে মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। তবে উইকেট এনে দিতে পারেননি এই দুই অভিজ্ঞ পেসারের কেউই। ফলে ইনিংসের সপ্তম ওভারেই স্পিন আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ নিজে বোলিংয়ে আসেন। কিন্তু তাতেও উইকেটের দেখা মেলেনি।পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিনকে সরিয়ে নাহিদের হাতে বল দেন মিরাজ। আক্রমণে এসেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন এই তরুণ পেসার। ওভারের শেষ বলে তাকে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন সাহিবজাদা ফারহান। ২৭ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি।নিজের পরের চার ওভারের সবকটিতেই উইকেট পেয়েছেন নাহিদ। যথাক্রমে শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরান এই ডানহাতি পেসার। পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে ফাইফার পূরণ করেন তিনি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার।১৯তম ওভারে নাহিদের সঙ্গে উইকেট পার্টিতে যোগ দেন মিরাজও। ওভারের শেষ বলে আব্দুল সামাদকে লিটনের গ্লাভস বন্দি করে ফেরান তিনি। এরপর হোসাইন তালাতকেও ফিরিয়েছেন মিরাজ। ২৩তম ওভারের প্রথম বলে এই ব্যাটারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একই ওভারের শেষ বলে শাহিন আফ্রিদিকেও ফেরান মিরাজ।দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ২৪তম ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৮২ রানে নবম উইকেট হারানোর পর একশর আগেই অলআউটের শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে ফাহিম আশরাফ একাই কিছুটা লড়াই করেন। আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোরকমে একশ পেরিয়ে অলআউট হয় পাকিস্তান। 

পাকিস্তানকে সর্বনিম্ন রানে অলআউট করল বাংলাদেশ
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম
বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘কঠিন’ গ্রুপে পড়েছে দাবি দুই দেশের কোচের। আপনিও কী এমনটি মনে করেন?

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘কঠিন’ গ্রুপে পড়েছে দাবি দুই দেশের কোচের। আপনিও কী এমনটি মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন