প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান
আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষা, সমাজে বিদআত পরিহার এবং নৈতিক জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দেওয়া তার বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক নেটিজেন। যদিও এ নিয়ে ভিন্নমতও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।গতকাল সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআই) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন বেড়েছে। এসব থেকে বেরিয়ে এসে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘বিদআত ছেয়ে গেছে এদেশে। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত। সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটি সুস্থ সমাজ ইসলামিক সমাজ আমরা চাচ্ছি, এই এডুকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে। আমি মনে করি এভাবে যদি আমরা এডুকেশন ইন্সটিটিউশগুলোকে গড়ে তুলি, তাহলে আমরা একটা এডুকেশন সিস্টেম পাব, যেভাবে ইসলামিক ভেল্যুসগুলো থাকবে। মর্ডান এডুকেশন থাকবে। যাতে সোসাইটি লাভবান হয়।’আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও মানবিক জাতি গঠন সম্ভব নয় মন্তব্য করে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় একদিকে আধুনিক শিক্ষায় ইসলামী মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী শিক্ষায় আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব দেখা যায়। এর ফলে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত অনেকের সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আজ যদি আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী ৩০ বছর পর একটি সুস্থ, আদর্শ ও নৈতিক জাতি উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে নির্ধারিত আরও সাতটি আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন সেনাবাহিনী প্রধান।ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ সবকিছু একসঙ্গে অর্জনের সুযোগ পাবে।সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা।সুলতান মাহমুদ রুপশ নামে ফেসবুক ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ মাননীয় সেনাপ্রধান! আপনাকে যত দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি।’জাকিরুল আলম মিলন নামে একজন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! দেশের জন্য এরকম দ্বীনদার সেনাপ্রধান একান্ত কাম্য! আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করি! শ্রদ্ধেয় সেনাপ্রধানের জ্ঞানগর্ভ, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী আরো উদ্যমে, সুসংগঠিত এবং নিবেদিত প্রাণ হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন! মহান আল্লাহ প্রতিটি সেনা সদস্যকে তার খাস বান্দা হিসেবে কবুল করুন!’ইসমাইল টোলিন নামে একজন লিখেছেন, ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার কথা একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মুখে শুনতে সবসময়ই ভালো লাগে। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে ইসলামের রীতি-নীতি ও নৈতিক শিক্ষা তুলে ধরার প্রচেষ্টা আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। এতে তার প্রতি আলাদা একটি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। দেশের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। মহান আল্লাহ তাকে ন্যায়, সততা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের সেবা করার তাওফিক দান করুন।
৩ মিনিট আগে