দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

শাপলা ট্রাজেডি স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল: চরমোনাই পীর



শাপলা ট্রাজেডি স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। শাপলা চত্বরের ট্রাজেডিকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল। 

সোমবার (৫ মে) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। 

রেজাউল করীম বলেন, নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের স্বশস্ত্র অভিযান চালানোর নজীর ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্তরে রাত্রিযাপন করেছিল তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সি ছাত্র, যাদের সঙ্গে কোনো ধরণের অস্ত্র ছিল না, যাদের অপরাধের কোনো পূর্ব নজীরও ছিল না। তেমন একদল শিক্ষার্থীদের ওপরে রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সামরিক অভিযানের মতো করে যেভাবে হামলে পড়েছিল, তার দৃষ্টান্ত অভিশপ্ত ইজরায়েলি বাহিনীর অভিযান ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদরাসা ও ইসলামপন্থার ওপরে চরম বিদ্বেষ ও জিঘাংশা থেকে সেই অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই বিভৎস হত্যাকাণ্ডের পরেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয়, যার পরিণাম জাতিকে বহন করতে হয়েছে আরও ১১ বছর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী সেই বর্বরতার শিকার হয়েছে। 

চরমোনাই পীর বলেন, আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোনো স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পাঁচ-মের পরে দেশের রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। সরকারকে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ গণমাধ্যমের থেকেও কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নাই; বরং বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সেই বর্বরতাও কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরণের বৈধতা পেয়েছিল। 

ইসলামী আন্দোলনের আমির দাবি করেন, শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদেরকে জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলাকেন্দ্রীক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে মামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্বরণ করতে হবে।

বিষয় : শাপলা ট্রাজেডি স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল: চরমোনাই পীর

আপনার মতামত লিখুন

দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


শাপলা ট্রাজেডি স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল: চরমোনাই পীর

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। শাপলা চত্বরের ট্রাজেডিকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল। 

সোমবার (৫ মে) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। 

রেজাউল করীম বলেন, নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের স্বশস্ত্র অভিযান চালানোর নজীর ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্তরে রাত্রিযাপন করেছিল তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সি ছাত্র, যাদের সঙ্গে কোনো ধরণের অস্ত্র ছিল না, যাদের অপরাধের কোনো পূর্ব নজীরও ছিল না। তেমন একদল শিক্ষার্থীদের ওপরে রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সামরিক অভিযানের মতো করে যেভাবে হামলে পড়েছিল, তার দৃষ্টান্ত অভিশপ্ত ইজরায়েলি বাহিনীর অভিযান ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদরাসা ও ইসলামপন্থার ওপরে চরম বিদ্বেষ ও জিঘাংশা থেকে সেই অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই বিভৎস হত্যাকাণ্ডের পরেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয়, যার পরিণাম জাতিকে বহন করতে হয়েছে আরও ১১ বছর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী সেই বর্বরতার শিকার হয়েছে। 

চরমোনাই পীর বলেন, আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোনো স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পাঁচ-মের পরে দেশের রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। সরকারকে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও রাষ্ট্রের পঞ্চম স্তম্ভ গণমাধ্যমের থেকেও কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নাই; বরং বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সেই বর্বরতাও কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরণের বৈধতা পেয়েছিল। 

ইসলামী আন্দোলনের আমির দাবি করেন, শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদেরকে জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলাকেন্দ্রীক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে মামলায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্বরণ করতে হবে।


দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: শাহ্ আলম নূর আকাশ (8801715412204)
বার্তা সম্পাদক: মো: নুরুল হুদা দুলাল (8801715803963)
হেড অব নিউজ: আব্দুস সালাম (8801721460008) 
আইন উপদেষ্টা: অ্যাড. সারওয়ার আহমেদ বাবু (8801318071980)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম